হেবা দলিল ও দানপত্র দলিলের নিয়মাবলী, রক্তের সম্পর্ক
মুসলিম পারিবারিক আইনে কোনো প্রতিদান বা মূল্য ছাড়াই নিঃস্বার্থভাবে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়াকে হেবা (Hiba / Gift) বলা হয়। সাধারণভাবে এটিকে 'দানপত্র' বলা হলেও সাধারণ দানপত্র এবং হেবা দলিলের মধ্যে সরকারি ফি ও আইনি বিধানে বড় পার্থক্য রয়েছে। রক্তের নির্দিষ্ট সম্পর্কের ব্যক্তিদের মধ্যে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবা দলিল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম।
হেবা দলিল কী?
হেবা মূলত একটি ইসলামিক পরিভাষা, যার অর্থ কোনো প্রকার বিনিময় বা অর্থ গ্রহণ ব্যতিরেকে জীবিত অবস্থায় একজনের সম্পত্তি অন্যজনকে স্বেচ্ছায় দান করা। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০৪ সালের সংশোধিত ভূমি আইন মোতাবেক যেকোনো হেবা দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে লিখিতভাবে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।
কোন কোন সম্পর্কের মধ্যে হেবা দলিল করা যায়?
রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ রক্তের সম্পর্কের ব্যক্তিদের মধ্যে নামমাত্র খরচে হেবা দলিল রেজিস্ট্রি করা যায়। এই সম্পর্কগুলো হলো:
- স্বামী ও স্ত্রী একে অপরকে
- পিতা-মাতা এবং তাদের সন্তান (পুত্র বা কন্যা)
- আপন ভাই-বোন একে অপরকে
- দাদা-দাদী এবং তাদের নাতি-নাতনি
- নানা-নানী এবং তাদের নাতি-নাতনি
উল্লেখ্য: চাচা, মামা, ফুফু, খালা বা শশুর-শাশুড়ির সাথে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবার কম খরচের সুবিধা পাওয়া যাবে না; তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ দানপত্র (Gift Deed) বা সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন করতে হয়।
হেবা দলিলের বৈধতার ৩টি প্রধান শর্ত
- দাতার প্রস্তাব (Offer / ইজাব): জমিটির প্রকৃত মালিক সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে ও বিনা প্ররোচনায় জমি দান করার প্রস্তাব করবেন।
- গ্রহীতার সম্মতি (Acceptance / কবুল): যাকে দান করা হচ্ছে তিনি সেই দান গ্রহণ করবেন।
- দখল হস্তান্তর (Delivery of Possession): দলিলের সাথে সাথে জমির বাস্তব দখল গ্রহীতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
হেবা দলিল করার পর করণীয়
হেবা দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রহীতার উচিত অবিলম্বে নিজ নামে নামজারি (মিউটেশন) করিয়ে নেওয়া এবং নতুন খতিয়ান তৈরি করে হালনাগাদ খাজনা পরিশোধ করা। নিজের প্রাপ্ত অংশের জমির পরিমাপ সঠিকভাবে বুঝে নিতে আমাদের জমির অংশ ও হিস্যা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।